৫০ লাখ টাকার ডাকটিকেট নিয়ে কারচুপি: বাক্সগুলাে ভাঙল কে
প্রায় ৫০ লাখ টাকার ডাকটিকেট ভর্তি আঠারােটি বাক্স এখানে ভাঙ্গা ও নষ্ট অবস্থায় পাওয়া গেছে। ডাক বিভাগের এসিস্ট্যান্ট কন্ট্রোলার অবস্ট্যাম্পস ঢাকা থেকে টোনযােগে এগুলাে চট্টগ্রাম পাঠান। জানা গেছে যে স্ট্যাম্প কম পড়বে এই ভয়ে এর গ্রহীতা চট্টগ্রাম ট্রেজারী এখনও পর্যন্ত উপরােক্ত বাক্সগুলাের ডেলিভারী নিতে চাচ্ছে না।
উল্লেখ্য যে জেনারেল পােস্টঅফিস চট্টগ্রাম ট্রেজারী থেকে ডাকটিকিট সংগ্রহ করে সমস্ত ডাকঘরে তা সরবরাহ করে। জানা গেছে যে চট্টগ্রাম ট্রেজারী উপরােক্ত বাক্সগুলাে ডেলিভারি না নেওয়ার ফলে গত পঁচিশ দিন ধরে চট্টগ্রাম জেনারেল পােস্ট অফিসসহ কোন ডাকঘরেই পাঁচ পয়সা, ১০ পয়সা, ২০ পয়সা ও ২৫ পয়সার ডাকটিকিট এবং খাম ও পােস্টকার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গত পঁচিশ দিন ধরে চট্টগ্রাম জেলার সমস্ত ডাকঘরের আয় প্রায় ৮০ ভাগ কমে গেছে এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে যে এ বছর ১৭ই এপ্রিল চট্টগ্রাম ট্রেজারি ডাকটিকিট ভর্তি একটি বাক্স ডেলিভারি নেয়। এ বাক্সটিও এ্যসিস্ট্যান্ড কন্ট্রোলার অব স্ট্যাম্পস ঢাকা ট্রোনযােগে চট্টগ্রাম পাঠান। কিন্তু ঐ বাক্স খুলে দেয়া যায় যে ৭৯ হাজার ৭১০ টাকা ২৫ পয়সা দামের ইমপ্রেস্ট কোর্ট ফি লাপাত্তা।
আরাে জানা গেছে যে চট্টগ্রাম ট্রেজারি গত ১৯শে জুন ডাকটিকিট ভর্তি দুটি বাক্স নষ্ট অবস্থায়। ডেলিভারি নেয়। এই বাক্স দুটিও এ্যাসিস্ট্যান্ট কন্ট্রোলার অব স্ট্যাম্পস ঢাকা থেকে ট্রোনযােগে চট্টগ্রাম পাঠানাে এবরিও বাক্স খুলে দেখা যায় যে কিছুসংখ্যক ২৫ পয়সার ডাকটিকিটসহ সিনেমা হলের জন্যে প্রয়ােজনীয় চার লাভ ২৫ হাজার ৬৩১ টাকা দামের স্ট্যাম্প লাপাত্তা।
জানা গেছে যে ঐ দুই তারিখেই দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সিআইডি ইন্সপেক্টার জনাব এ হালিমের নেতৃত্বে তদন্ত চালানাে হচ্ছে। চট্টগ্রাম ট্রেজারীর একজন কর্মকর্তার সাথে যােগাযােগ করা হলে তিনি এই প্রতিনিধিকে বলেন যে উপরােক্ত দুই তারিখে যেভাবে স্ট্যাম্প কম পাওয়া গেছে অনুরূপ কম পাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম ট্রেজারি এখনও ডাকটিকেট ভর্তি উল্লেখিত আঠারােটি বাক্স ডেলিভারী নিচ্ছে না।
জানা গেছে যে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ডাকটিকেট ভর্তি উল্লেখিত আঠারােটি বাক্স ঢাকা থেকে এখানে ট্রেনযােগে কোন পুলিশ প্রহরা ও বীমা কাভার ছাড়াই পাঠানাে হয়েছে। আর এ ঘটনার ফলে সাবেক চট্টগ্রাম জেলার জনসাধারণ বিশেষ অসুবিধা ভােগ করছে। কারণ পােস্ট কার্ড, খাম ও ডাকটিকিটের অভাবে তাদের চিঠি পত্র লেখা বন্ধ রয়েছে।
আগামী আগস্ট মাস থেকে কলকারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়মিত রেশন সরবরাহের জন্যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদেরকে এই রেশন দেয়া হবে মাসিক ভিত্তিতে। খাদ্যমন্ত্রী জনাব আবদুল মমিন বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘােষণা করে বলেন, গতানুগতিক রেশনিং ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করে অভাবে মানুষদের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেবার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছেন। শ্রমিকদের রেশন দান তারই একটি উল্লেখযােগ্য পদক্ষেপ।
৫০ বা তার বেশি শ্রমিক কর্মচারী যেসব কল-কারখানায় কাজ করেন সেইসব প্রতিষ্ঠান এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসবে বলে খাদ্যমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, শ্রমিক কর্মচারীদেরকে মাসে মাথাপিছু ৩ সের করে গম দেয়া হবে। সম্ভব হলে মাঝে মাঝে চিনি দেবারও ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রয়ােজনবােধে লবণও দেয়া হবে। বছরের যে কয়মাস চিনিকলগুলি চালু থাকে সেই কয় মাসে চিনিকলের শ্রমিকদেরও এই একই ভিত্তিতে রেশন দেয়া হবে।
এর ফলে ১ লক্ষ ৩০ হাজার চা শ্রমিকসহ দেশের প্রায় ৫ লক্ষ শ্রমিক কর্মচারী রেশনিং এর সুবিধা পাবেন বলে খাদ্যমন্ত্রী জনাব মমিন জানান। এই বাড়তি চাহিদা মেটানাের জন্যে বছরে অতিরিক্ত আরাে প্রায় ২ লক্ষ টন গম প্রয়ােজন হবে। তবে শহরাঞ্চলের বিধিবদ্ধ রেশনিং এলাকায় বসবাসকারী শ্রমিক কর্মচারীরা কলকারখানায় প্রদত্ত রেশন পাবেন না। বিধিবদ্ধ এলাকার রেশন পাচ্ছেন এমন কেউ যদি কলকারখানায় প্রদত্ত রেশনও গ্রহণ করেন তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মমিন জানান।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্যে ১৯৪৩ সালে যে রেশনিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিল এখন সেই উপনিবেশিক ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে কমে কমে গ্রাম পর্যায়ে রেশন দেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতদিন শ্রমিকদের রেশন দেবার যে নিয়ম ছিল তারও আমূল পরিবর্তন ঘটলাে এই নতুন ব্যবস্থায়। এত দিন সেই সব কলকারখানাতেই রেশন দেয়া হতাে যেগুলিতে শ্রমিক কর্মচারীর সংখ্যা ২ শতের বেশি। তাও এদের রেশন প্রদানের কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থা ছিল না। এই প্রথম প্রতি শ্রমিককে মাথাপিছু ৩৫ সের করে গম দেবার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হলাে। শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলােচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তগুলি নেয়া হয়েছে বলে খাদ্যমন্ত্রী জানান।
সচিবালয়ে মন্ত্রী মহােদয়ের কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউসুফ আলী বাকশালের অন্যতম সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মণি, সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা কাজী মােজাম্মেল হক ও অন্যান্য শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: দৈনিক বাংলা, ২৫ জুলাই ১৯৭৫
দিনলিপি বঙ্গবন্ধুর শাসন সময় ১৯৭৫ – অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ ও শাহজাহান মৃধা বেনু সম্পাদিত