দৈনিক পয়গাম
২২শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
পল্টনের জনসভায় ছাত্র নেতার ঘোষণা :
শেখ মুজিবকে মুক্তি না দিলে আগামী ৪ঠা মার্চ প্রদেশব্যাপী হরতাল
(ষ্টাফ রিপোর্টার)
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জনাব তোফায়েল আহমদ ঘোষণা করেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আজ শুধু ভাষার দাবী আদায় করিতেই চায় না তাহারা চায় মুক্তি।
গতকল্য (শুক্রবার) মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক পল্টন ময়দানে আয়োজিত এক বিরাট জনসভায় জনাব তোফায়েল আহমদ উপরোক্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন যে, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী বাংলা ভাষার মর্যাদা আদায়ের জন্য ঢাকার রাজপথে যে রক্তাক্ত ইতিহাস সৃষ্টি হইয়াছিল উহার ১৭ বছর পর আজ আবার পূর্ব বাংলার ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক-বুদ্ধিজীবী তথা প্রদেশের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ জাগিয়া উঠিয়াছে—তাহারা আজ পাগল হইয়া উঠিয়াছে। শহীদ দিবস উপলক্ষে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বিরাট জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডঃ রাশীদুজ্জামান সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা জনাব মাহবুবুল হক দুলন, সম্প্রতি পুলিশের গুলীতে নিহত আইনের ছাত্র মরহুম আসাদুজ্জামানের বড় ভাই জনাব রশীদুজ্জামান, সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা জনাব সাইফুদ্দিন আহমদ মানিক, জনাব আবদুর রউফ, জনাব মোস্তফা জামাল হায়দার ও জনাব নাজিম কামরান চৌধুরী বক্তৃতা করেন।
জনাব তোফায়েল আহমদ সভাপতির ভাষণে বলেন যে, ১১-দফা কোন শ্রেণী বিশেষের দফা নয়-১১-দফা হইল মুক্তির দফা-পূর্ব বাংলার স্বাধীকার আদায়ের সনদ। সভার সময়ের বহু পূর্ব হইতেই শহরের বিভিন্ন এলাকা হইতে খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে ছাত্রজনতা পল্টনে জমায়েত হইতে শুরু করে। সভা শুরু হওয়ার পরেও বহু মিছিল পল্টন ময়দানে আগমন করে। কিন্তু অপরাহ্ন ৪টার সময় কয়েকশত বৈঠাসহ মাঝিদের একটি মিছিল সভাস্থলে আগমন করিলে উপস্থিত জনতার হর্ষধ্বনিতে পল্টন ময়দান মুখরিত হইয়া উঠে। সভা মঞ্চে “আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার কর,” “শেখ মুজিবের মুক্তি চাই,” “সর্বহারাদের প্রিয় নেতা মনি সিং-এর মুক্তি চাই” প্রভৃতি শ্লোগান লিখিত বিরাট ব্যানার শোভা পাইতেছিল।
সুত্র: সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু: পঞ্চম খণ্ড ॥ ষাটের দশক ॥ চতুর্থ পর্ব ॥ ১৯৬৯