শিরোনাম | সূত্র | তারিখ |
১১৩। রাষ্ট্রসংঘ থেকে পাকিস্তানকে বহিষ্কারের দাবী জানিয়ে বাংলাদেশ সহায়ক শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী সমিতির প্রস্তাব | দৈনিক হিন্দুস্তান স্ট্যাণ্ডার্ড | ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ |
বাংলার বুদ্ধিজীবীদের সহায়ক সমিতি গঠন
বুধবার ড. এস. এন. সেন, উপাধ্যক্ষ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর সভাপতিত্বে সংগ্রামী স্বাধীন বাংলাদেশ সহায়ক কমিটি (বাংলার বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা অর্থনৈতিক সমর্থন প্রাপ্ত) এর পরিচালনা পর্ষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আরো সভাপতিত্ব করেন সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি, প্রফেসর নির্মল ভট্টাচার্য।
সমিতির সাধারণ সচিব কমিটির সামনে খসড়া আহ্বান এবং কর্মসূচির তালিকা উপস্থাপন করেন যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। কমিটির পক্ষ থেকে জনাব সুব্রত মুখার্জী, এমএলএ “সংগ্রামী স্বাধীন বাংলাদেশ সহায়ক কমিটি” এবং মুখ্যমন্ত্রী জনাব অজয় কুমার মুখার্জীর নেতৃত্বাধীন “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়ক কমিটি” এর মাঝে সংযোগ রক্ষা করবার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
ড. সুনীল কুমার চ্যাটার্জি, কনাব তদ্র শঙ্কর বন্দোপাধ্যায়, জনাব তুষার কান্তি ঘোষ, বিচারপতি সুন্দর প্রসাদ মিত্র, বিচারপতি এস. এ. মাসুদ, ড. শৈলেন্দ্র নাথ সেন, ড. রমা চৌধুরী, জনাব অশোক কুমার সরকার, জনাব শুধাংশু কুমার বসু, শ্রী বিবেকানন্দ মুখার্জী, জনাব সুকোমল কান্তি ঘোষ, জনাব মনোজ বোস, জনাব প্রবোধ কুমার স্যানাল, প্রিন্সিপাল পি. কে. বোস, ড. প্রবীর বসু মল্লিক, জনাব সাইবাই গুপ্ত, প্রফেসর নির্মল চন্দ্র ভট্টাচার্য এবং অন্যান্যরা এক আহ্বানে বলেনঃ
নিরস্ত্র বেসামরিক নারী-পুরুষ-শিশুর যথেচ্ছ হত্যাকাণ্ড, নারীদের উপর অত্যাচার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রেমী জনগণের ওপর পাকিস্তানী সামরিক জান্তার চালানো অন্যান্য নৃশংসতার খবর দৈনিক পত্রিকাগুলোর পৃষ্ঠায় নিয়মিতই উঠে আসছে, তার জন্যে কোনরূপ বর্ণনার প্রয়োজন পড়ে না। যখন ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা অমানবিক ও স্বৈরাচারী শাসক কর্তৃক লাখো বাঙালি অবর্ণনীয় শোষণের স্বীকার হচ্ছে তখন সীমান্তের এপারের জনগণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যেতে পারে না। “বাংলাদেশ” এর জনগণের এই ধর্মযুদ্ধ দীর্ঘকাল ধরে চলবে। সুতরাং ভারতীয় জনগণের জন্য বাংলাদেশের জনগণের সুবিধার্থে ত্রাণ ও অন্যান্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যকীয় যাতে করে তারা যে আদর্শের জন্য লড়াই করছে তা অর্জনের লক্ষ্যে ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।
এই প্রচেষ্টার সফলতার জন্য স্বার্থত্যাগী তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের দরকার হবে যারা প্রয়োজন পড়লে যেকোনো সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত থাকবে।
আমরা সাধারণভাবে জনগণের কাছে এবং বিশেষভাবে উৎপাদনকারীদের নিকটে টাকা বা দ্রব্যসামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে এই সহযোগিতা প্রকল্পে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। ত্রাণকার্যের জন্যে এইসকল দ্রব্যাদি এখন খুবই জরুরিভাবে দরকারঃ পেট্রল অথবা মবিলের টিন, সাইকেলের টায়ার এবং টিউব, টর্চ ও ব্যাটারি, পানির বোতল, রাবারের জুতা, ম্যাচকাঠি, গুঁড়ো দুধ, লবণ, সরিষার তেল, কেরোসিন প্রভৃতি। ওষুধের মধ্যে দ্রুত যেগুলো প্রয়োজন সেগুলো হলঃ টি.এ.বি.সি. ইনজেকশন, ভ্যাকসিন, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দরকারী সবরকম ওষুধ।
আমরা সকলের কাছে টাকা অথবা দ্রব্যসামগ্রীর মাধ্যমে প্রদেয় তাদের সহযোগিতাগুলো জনাব সন্তোষ কুমার ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ, সংগ্রামী স্বাধীন বাংলাদেশ সহায়ক কমিটি (১০৭/সি, আশুতোষ মুখার্জী রোড, কলকাতা, ফোনঃ ৪৭-৪০২০৩১, সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে) এর নিকট পৌঁছে দিতে আহ্বান জানাচ্ছি।
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগদানের জন্যে যোগাযোগ করুন জনাব বিনয় সরকার, সাধারণ সচিব, “সংগ্রামী স্বাধীন বাংলাদেশ সহায়ক কমিটি” এর সাথে (আইএ কলেজ সারি, কলকাতা-৮, ফোনঃ ৩৪-৭৩১১) এর সাথে, রাত আটটা থেকে নটার মধ্যে।