বীর বিক্রম জনাব আলী
জনাব আলী, বীর বিক্রম (মৃত্যু ১৯৮৪) অনারারি লেফটেন্যান্ট ও মুক্তিযুদ্ধের একজন অকুতোভয় সৈনিক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত বিজয়নগর উপজেলার মিরাশানী ইউনিয়নের নোয়াবদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আলী এবং মাতার নাম মেহেরুন নেছা। তিনি মিরাশানী পলিটেকনিক একাডেমিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।
জনাব আলী ১৯৪৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। তিনি ইবিআরসি, চট্টগ্রাম থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর পশ্চিম পাকিস্তানে পদায়ন পান। পরবর্তীতে সুবেদার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ২য় বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হন। ১৯৭১ সালে জনাব আলী জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্টে ২য় বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ২৮-২৯শে মার্চ সন্ধ্যায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধ শেষে তিনি সহযোদ্ধাদের নিয়ে অস্ত্রসহ পায়ে হেঁটে মনতলা চলে যান। তিনি ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর কে এম সফিউল্লাহর নেতৃত্বে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন এ এস এম নাসিমের অধীনে পঞ্চবটী সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন। চান্দুরা, মনতলা, শাহবাজপুর প্রভৃতিসহ এ সাব-সেক্টরের অধিকাংশ যুদ্ধে তিনি সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন। মনতলা যুদ্ধে সাব-সেক্টর কমান্ডার নাসিম আহত হলে জনাব আলী তাঁকে কাঁধে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। এছাড়া তিনি মুক্তি তারকা, সমর পদক, বিজয় পদক, সংগঠন পদক, ভিক্টরি মেডেলসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত হন। জনাব আলী ৩ কন্যা ও ৩ পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রীর নাম সাজেদা মাহমুদা। ১৯৮৪ সালে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরলোক গমন করেন। [হারুন রশীদ]
সূত্র: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ ৪র্থ খণ্ড